Showing posts with label Feelings. Show all posts
Showing posts with label Feelings. Show all posts

Tuesday, September 22, 2009

। দুই-মেগাপিক্সেল...। এক চিমটি র‌্যাংগস ।


। দুই-মেগাপিক্সেল...। এক চিমটি র‌্যাংগস ।
রণদীপম বসু

...
আমার এই দুই-মেগাপিক্সেলটা যখন হাতে আসে, র‌্যাংগস ভবন তখন বিলুপ্তির শেষ ধাপে। টাউন বাসে আসতে যেতে এর বিলুপ্তির প্রতিটা ধাপই চোখে পড়েছে। কিন্তু তা ধারণ করে রাখার সুযোগ ছিলো না। হঠাৎ করে ঢাকায় উগ্র-মোল্লাদের ভাস্কর্য ভাঙার একটা অস্থিরতা দেখা দিলে, ‘যদি হারিয়ে যায়’ ধরনের একটা বোধ বুকের ভেতরে চাড়া দিয়ে উঠলো। জনপদ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ভাস্কর্য-স্মারক-পথভাস্কর্য-স্থাপনাগুলোকে আলোকস্মৃতিতে ধরে রাখার হাস্যকর একটা তাগিদ থেকে ছাপোষাদের প্রাপ্য অনুদান উৎসব বোনাসের সীমিত সামর্থ দিয়ে দুই-মেগাপিক্সেলটার স্বত্ব পেলাম। ক’দিন পরই ঈদের ছুটি, ঢাকা যখন ফাঁকা অবস্থা, ভবঘুরে দু’পা সঙ্গি করে বেরিয়ে পড়ি। দুপুর নাই সন্ধ্যা নাই যখন যেখানে পারছি দুই-মেগাপিক্সেলে ধরতে চাচ্ছি সব। আমার দুর্ভাগ্য বলতে হবে, সেই ক’টা দিনই সূর্য মিয়াও সম্ভবত ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে ছিলো। তাই আমার মতো ভাদাইম্যা-কুয়াশার উৎপাতে ছবি তুলবো কী, একটু দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিলো না কিছুই। কিন্তু এর পরে যে আমার আর সুযোগ নেই !

হাঁটার শ্রান্তি কান্তি ভুলে ঘেমে নেয়ে একশেষ হাঁপাচ্ছি আর গাবরের মতো সাটার টিপছি কেবল। এগুলোতে না আছে ফটোগ্রাফি, না আছে শিল্প। থাকবে কোত্থেকে ! পূর্ব অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা না থাকলে যা হয়। তবে পুঁজি কম নয়, অদম্য আগ্রহ আর মন কেমন করা আবেগ। না থাক্ নান্দনিকতা, চিহ্ণ তো রইলো ! ওটাই সান্ত্বনা।


শীর্ষের ছবিটাও তখনই তোলা, ২৫-১২-২০০৮ সন্ধ্যা হয় হয় সময়টাতে। স্মারক ভাস্কর্যটির লাল স্তম্ভগুলোর ফাঁক দিয়ে এক চিমটি র‌্যাংগস ভবন ধরা পড়তেই খেয়াল করলাম, আসলে ওইটুকুই ভবনটির অবশিষ্টাংশ। গাড়ি-ঘোড়ার ফাঁক-ফোকর বাঁচিয়ে সেই র‌্যাংগস-এর শেষ কংকালটাও ধরে রাখলাম।

একটা আফসোস বেজে উঠলো- ইশ্, আর ক’দিন আগে হলে ইতিহাসের সাক্ষী ভবনটার একটা পূর্ণ ছবিও রাখা যেতো ! যদি কখনো ‘টাইম মেশিন’ জাতীয় যান চলাচল চালু হয়, সুযোগ পেলে নিশ্চিতভাবে অতীতে গিয়ে ওটার একটা ছবি নিয়ে আসবো, এই সিদ্ধান্তটাও মনে মনে নিয়ে রাখলাম। কিন্তু এই নশ্বর জীবনের আছি-নেই তুলনাটা বোঝার জন্য একটা ছবি তো দরকার ! অন্তর্জালিক আর্কাইভে ঢুঁ মেরে পেলাম এইটা, ছবির উৎসে বলা আছে শাহাবুদ্দিন ব্লগস্পট। ছবিগ্রাহকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছবিটা ব্যবহার করলাম এখানে।


ফিরে আসতে আসতে বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। জীবনের নশ্বরতা চোখের সামনে ঘটতে দেখলে ছিটগ্রস্ত মানুষের মনে কখনো কখনো আধা-দার্শনিকবোধ জেগে উঠে। তাই মনে হলো ক’দিন পর এই চিহ্ণহীন ফাঁকা জায়গাটায় দাঁড়িয়ে হয়তো কোন বাউল একদিন এমনি করে গেয়ে উঠবে-

এইখানে এক দালান ছিলো র‌্যাংগস ছিলো তার নাম
একদিন সেইটা হাপিশ কইরা দয়াল করলা কেমুন কাম
আহা, এই আছি এই নাই-এর মাঝে নাইরে কারো দাম
দয়াল এ কেমুন ইঞ্জাম...।

...

Thursday, July 23, 2009

# ‘কিংবদন্তী’


‘কিংবদন্তী’
রণদীপম বসু

“ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।”


কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ শিরোনামের বিখ্যাত এ অমর কবিতাটা পড়েননি বা এর কিছু পঙক্তি শুনেননি এমন বয়স্ক শিক্ষিত বাঙালি খুব বেশি নেই। বাঙালির ইতিহাস এই কিংবদন্তীরই ইতিহাস। এভাবেই আরেক কিংবদন্তী হয়ে ওঠা আমাদের প্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যেন আগামী প্রজন্ম কখনোই ভুলে না যায়, সেই অদম্য ইচ্ছের স্বপ্নই ঝরে পড়ে ভাস্কর হামিদুজ্জামান খানের গড়া ভাস্কর্য ‘কিংবদন্তী’র ঝকঝকে ধাতব শরীরে।


মিরপুর-১ এর সনি সিনেমা হলের সামনের গোল চক্করের প্রশস্ত সড়ক-দ্বীপে বসানো এই ভাস্কর্যটির শরীরে তখনো নীল পর্দায় মোড়ানো বিশাল অবগুণ্ঠন। ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের পদস্থ প্রতিনিধি সহ অন্যান্যদের হাতের টান পড়তেই খুলে গেলো ইচ্ছের গ্রন্থি। আজ ২৩-০৭-২০০৯ তারিখের অপরাহ্ণ ছ’টায় মেঘলা ছায়ার ফাঁকে বিকেলের সোনামাখা আলোয় ঝলমল করে উন্মোচিত হলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘কিংবদন্তী’।


অস্ত্র হাতে অদম্য যোদ্ধার দেহাকৃতির এই ‘কিংবদন্তী’র কাছে গেলে আমাদের সেইসব কিংবদন্তী পুর্বপুরুষের কথা মনে না হয়েই যায় না ! কেননা তাঁরা চাইলে বুঝি অবাধ্য থাবায় ওই আকাশটাও নিয়ে নিতেন হাতের মুঠোয়। আর তাঁদেরই উত্তরাধিকার বয়ে আমরা কী করে গুটিয়ে থাকি ! আমাদের বুকের গভীরে যে নদীটা কুলকুল করে বয়ে যায়, কান পাতলে এখনো কি শুনতে পাই না সেই অজেয় বীরত্বের গাঁথা ! হার না মানার চিরায়ত সুর আর মাটির ক্রন্দন !


বুক ভরা নিঃশ্বাসে ঠিকই এখনো পাওয়া যায় করতলে ধরে রাখা পলিমাটির সৌরভ। আসুন, আমরা সেই কিংবদন্তীর কথা বলি, আমাদের পূর্বপুরুষের কথা বলি। কারণ তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিলো। আমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে দিয়ে গেলেও তাঁরা যে ক্রিতদাস ছিলেন !





[somewherein|jonmojuddho]
[sachalayatan]

Wednesday, July 22, 2009

# আর ভিক্ষা করুম না, কানে ধরছি !


আর ভিক্ষা করুম না, কানে ধরছি !
রণদীপম বসু

কিছু কিছু ছবির কোন ক্যাপশান হয় না, হওয়া উচিত না। তবু বাঙড়ামি করে ক্যাপশান বসিয়ে দেই আমরা।
এ ছবিটার কি কোন ক্যাপশান হয়...! কিংবা নিচের এই ছবিটার...!


আপনারা কী বলেন ?

[somewherein]

Tuesday, July 14, 2009

# ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ২য়/শেষ পর্ব।


ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ২য়/শেষ পর্ব।
রণদীপম বসু

[১ম পর্ব এখানে...]

‘এই চর্মচক্ষে আমরা যাহা দেখি, তাহাই কি সত্যি ?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে নমুনা স্বরূপ আমাদেরকে সেই স্পটগুলোতে ঢুঁ মারতে হবে, যেখানে একটা সংগীত-সন্ধ্যা মুখর অনুষ্ঠানে (১২-০৭-২০০৯ রবিবার ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া মিলনায়তনে কিউটেনাস টি সেল লিম্ফোমা নামের ভয়াবহ রকমের ক্যান্সারে আক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ জে এস এম খালেদের চিকিৎসা সহায়তা তহবিল সংগ্রহার্থে আয়োজিত) আমাদের প্রিয় সচল মুখগুলো অনানুষ্ঠানিক যেসব মাধুর্য্য রচনা ও সংরক্ষণ করে গেছেন তা দেখার জন্য।


কথায় তো আর চিড়ে ভিজবে না। তার চে’ চলুন না হয় কিছু নমুনা ছবি বিশ্লেষণ করি !

সতর্কতা: ২মেগা পিক্সেল মোবাইল ক্যামেরার রাতকানা চোখকে বিশ্বাস করিলে ভালো, না করিলে আরো ভালো। তাই বলিয়া ছবির চরিত্রগুলি তো আর ছবি হইতে বাহির হইয়া এইদিক ওইদিক না তাকাইয়া সোজা হাঁটিয়া চলিয়া যাইবে না !


নমুনা ০১:
আমাদের সবার প্রিয় ছবিয়াল সচল মুস্তাফিজ ভাই অতি সজ্জন ব্যক্তি নিঃসন্দেহে। যে কোন ভুতের বেগার ও সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি অনেকটা নিশ্চিতই বলা চলে। আর ছবিয়াল হিসেবে তিনি যে একেবারে গুরুগোত্রের মানুষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ছোট্টখাট্ট ক্যামেরার এইটুকুন মুখে বহুগুণ বড়ো সাইজের হাতির শূরের মতো জুড়ে দেয়া দীঘালে-পাথালে বিশাল লম্বা মোটা বস্তুটাকে যাঁরা চিনেন তাঁরা তো তাঁকে সমঝে চলেনই, আমার মতো নাখান্দা বান্দাদের নিরীহ পিলেটাও তা দেখেই চমকে ওঠে ! দুনিয়া জুড়ে কতো কিছুর ছবি তুলে বেড়ান তিনি ! কিন্তু তাঁর নিজের ছবি অন্য কেউ তুলতে গেলে এ কী ব্যবহার বলুন তো ! ভাগ্যিস নমুনা প্রমাণ হিসেবে ছবিটা ছিলো ! নইলে ছবি তোলার কথা বললেই তিনি যেভাবে ভেঙচি কেটে ওঠেন, তা কি বিশ্বাস করানো যেতো ! দেখুন না, লজ্জা পেয়ে কানাডা থেকে সদ্য আগত অমিতও তাঁর মুখটা কিভাবে ঘুরিয়ে নিচ্ছে !


নমুনা ০২:
আমাদের অতি প্রিয় স্বনামখ্যাত ব্লগার ও লেখক সচল অমিত আহমেদের নামের সাথে প্রায় সবাই পরিচিত। কদিন পরই যাঁর নামের আগে ড. কিংবা পরে পিএইচডি বিশেষণ যুক্ত হতে যাচ্ছে। গল্প উপন্যাসের বারোভাজা সেরে এবার সাইফাই গল্পকেও যেভাবে তিনি সাইজ করতে নেমেছেন, ক’দিন পর যদি ভাত মারার অভিযোগে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তাঁকে লাঠি নিয়ে তাড়া করতে থাকেন, আশ্চর্যের কিছু হবে না। সেই অমিত আহমেদ ঢাকা এসেছেন শুনে দৌঁড়ে গেলাম জাদুঘরে। কিন্তু কোথায় অমিত ! একটু পরে রীতিমতো নায়কী চেহারার এক টিন-এজ ছেলে এসে বলে কিনা- আমি অমিত ! চারদিকে যেভাবে ঠগ-বাটপাড়ে ছেয়ে যাচ্ছে, তাতে কানা হলেও আমার ২ মেঃপিঃ মোবাইল ক্যামেরাটাকে কাজে লাগানো জরুরি মনে করেছি।


নমুনা ০৩:
অনুষ্ঠান ভেনু জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া মিলনায়তনে কতো সুন্দর সুন্দর মুখ আর মিডিয়া পারফরমারদের আগমন ঘটবে, তাই হলের গেটে ষণ্ডামার্কা জুতসই দারোয়ান দরকার। আলগা ফুটানিতে অনেকেই ওস্তাদ, কিন্তু সময়কালে সেরূপ ষণ্ডামার্কা ফিগার আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করে এগিয়ে এলেন আমাদের সচল আহমেদুর রশিদ টুটুল ভাই- ক্যান, আমাকে পছন্দ হয় না ? বিশ্বাস করুন টুটুল ভাই তাঁর বহুমাত্রিক যোগ্যতা দিয়ে অনুষ্ঠান প্রবেশস্থলটাকে এমন নিরাপদ করে তুললেন যে, কাউকে টু-ফা করতেও দেখা যায়নি। সমস্যা ছিলো একটাই, আমার রাতকানা ক্যামেরার চোখ কিছুতেই টুটুল ভাইকে খুঁজে পাচ্ছিলো না !


নমুনা ০৪:
সবেমাত্র অনুষ্ঠান হলে ঢুকলেন অমিত। জনাকয়েক সচল তাঁর দিকে এগিয়ে এসে পরিচিত হচ্ছেন। আমার তো শুরুতেই সন্দেহ, এই নায়ক চেহারার ছোকরা একটা ছেলে কিছুতেই ক’দিন পরের ড. অমিত আহমেদ হতেই পারে না ! সন্দেহের নমুনা রাখতেই পকেট থেকে বের করে মোবাইল ক্যামেরাটা তাক করেছি। কিন্তু রাম যে বুঝে ফেলেছে উল্টোটা ! ‘আমি থাকতে আবার নায়ক কেডায় !’- বলেই লাফ দিয়ে সামনে এসে বিশাল মুড নিয়ে নজরুল ভাই ! দেখুন না, ভাব দেখে আর বাঁচি না !


নমুনা ০৫:
রতনে রতন চিনে, উরায় চিনে ধুরা ! এ কথার কী অর্থ, আমি বুঝি না। তবে কিছুদিন যাবৎ এটা খেয়াল করি যে, চেয়ার ভেঙে মাটি ডেবে ফেলা জাতিয় কী একটা দুর্ঘটনার পর থেকে বিশালদেহী ব্লগার শাহেনশাহ সিমন যে চেয়ারে বসেন, তাঁর পাশের চেয়ারে কেউ বসেন না। পাহাড়চাপা পড়ার আতঙ্কে হয়তো। তবু সিমনের পাশে যোগ্য আসন সঙ্গি পেতে দেরি হলো না। সেই খালি পড়ে থাকা চেয়ারটাতেই বড় আয়েশ করে বসে নিশ্চিন্তে অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন আরেক বিখ্যাত ব্লগার আরিফ জেবতিক। সত্যি, রতনেই রতন চিনে !


নমুনা ০৬:
অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময়টাতে হঠাৎ করে দেখা গেলো মিলনায়তনের ভেতরে আমাদের নক্ষত্র ব্লগার সচলরা কেউ নেই ! কী ব্যাপার ? খুঁজতে খুঁজতে কিঞ্চিৎ আলামত উদ্ধার করে সেই মোতাবেক প্রশস্থ প্যাসেজ ধরে একেবারে দক্ষিণপ্রান্তের আলোহীন ছায়াচ্ছন্ন কোনাটাতে একত্রে সবাইকে পাওয়া গেলো। কিন্তু কেউই নিজের নিজের চেহারাটা খোলতাই করছেন না। গোটা জাদুঘর এলাকাই ভেতরে-বাইরে ধুমপানমুক্ত শুধু নয়, ধুমপান নিষিদ্ধ এলাকাও। কিন্তু এই চিপায় এসে এখানে কী করছে এরা ! আমিই বুঝতে পারছি না, আমার কানা ক্যামেরা আর বুঝবে কী !


নমুনা ০৭:
সংসারে থেকেও যিনি সংসারের সকল মায়াচ্ছন্নতার উর্ধ্বে উঠে নিজেকে বিচরণ করান, তিনি আমাদের আরেক নাক্ষত্রিক গোসাই ব্লগার সচল মাহবুব লীলেন। আমাদের সাধারণ দৃষ্টিতে বিবেচ্য মহার্ঘ জিনিসপত্রও তাঁর কাছে গুরুত্বহীন তুচ্ছাতিতুচ্ছ ! সবাই জানে তিনি সমস্ত লোভ লালসার উর্ধ্বে সাধনার সপ্তশিখরে অবস্থান করেন। অথচ পোলাপাইন ব্লগার পান্থ রহমান রেজা কিসের প্যাকেটটা যেন কিনে এনে কেবল ছিঁড়েছে, অমনি লীলেন ভাই ‘এটা বাচ্চাদের খাবার নয়’ বলেই ছোঁ মেরে পান্থর হাত থেকে প্যাকেটটা তুলে নিয়ে গোগ্রাসে কেবল গিলতেই থাকলেন ! এটা কী জিনিস, তা সামান্য চেখে দেখার জন্য কত্তো কাকুতি-মিনতি করলাম। আশ্চর্য, তাঁকে একটুও গলাতে পারলাম না ! ভাগ্যিস মোবাইল ক্যামটা সাথে ছিলো। মনে ভীষণ ব্যথা নিয়ে পান্থ তো প্রায় ছিনিয়েই নিলো মোবাইলটা আমার হাত থেকে। এবং খিচে দিলো। নইলে কেউ কি বিশ্বাস করতো ?
আর টুটুল ভাই’র বহুমাত্রিক যোগ্যতাটা আবারো একটু যাচাই করে দেখুন তো, ফটকের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত অবস্থায় টুটুল ভাইকে মানিয়েছে কেমন ?
হাহ্ হাহ্ হা !

বোনাস: কিছু কানা ছবির নমুনা

















[sachalayatan]

Monday, July 13, 2009

# ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ১ম পর্ব।


ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ১ম পর্ব।
রণদীপম বসু

ছবি দেয়ার সবচে’ সহজ ও কঠিন সুবিধাটা হলো- নিরেট বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে একাধারে আমার মতো এক্কেবারে হাবাগোবা বেক্কল-টাইপ লোকটিও হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন এমন অসাধ্য প্রচেষ্টায় ইতংবিতং লিখে শহীদ হয়ে যাবার কোন ঝামেলা নেই। ছবিই সবকিছু বলে দেয়। এবং এমনভাবেই বলে দেয় যে, লেখার বাবারও সাধ্যি নেই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা বা বুঝানোর। আর বেশি বুঝানো তো দূরের কথা, একটা ছবি দেখে আমরা যা বুঝতে পারি তার সমান বুঝ সাপ্লাই দেয়াও কি যার তার দ্বারা সম্ভব ! আমার দ্বারা তো নয়ই ! এই দেখুন না, এ মুহূর্তে আমি যে কী বুঝাতে চাচ্ছি, এখন নিজেই সেটা বুঝতে পারছি না ! অন্যকে আর বুঝাবো কী ! অতএব এসব ক্যাচক্যাচানি বাদ দিয়ে বরং নিচে কিছু নমুনা ছবি ও উদাহরণ টানাই নিরাপদ উপায় হবে।


এই ১২-০৭-২০০৯ রবিবার ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া মিলনায়তনে কিউটেনাস টি সেল লিম্ফোমা নামের ভয়াবহ রকমের ক্যান্সারে আক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ জে এস এম খালেদের চিকিৎসা সহায়তা তহবিল সংগ্রহার্থে আয়োজিত সংগীত সন্ধ্যাটির কথাই ধরুন। একেকজন ভয়ঙ্কর সব চকচকে ক্যামেরার মাথায় ইয়া বড়ো বড়ো কামান মর্টার ফিট করে যেভাবে মিলনায়তনটিকে কাঁপিয়ে তুলছিলেন ক্লিক ক্লিক করে, এইসব মহাযোদ্ধাদের ভীড়ে বিন্দুমাত্র হায়া-শরম থাকলে কেউ ২ মেঃপিঃ রাতকানা মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে এই যুদ্ধে সামিল হতে পারে এটা আপনারা বিশ্বাস করলেও করতে পারেন, কিন্তু আমি করি না ! এরপরেও বেশরম আমি কেন গিয়েছি জানেন ? আত্মহত্যা করার কোন উপায় নেই আমার, এজন্যেই। তাই সাধ্যে না কুলালেও বেশরমবাজী করার ক্ষেত্রে আমার আন্তরিকতায় কোন ঘাটতি ছিলো না !


ওহ্ হো ! এবার মনে পড়েছে, কী বলতে চেয়েছিলাম আগে। আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, আমি যা বলতে চাই তা বলার ক্ষমতা আমার রাতকানা মোবাইল ক্যামেরার বলা কথার ন্যুনতম ক্ষমতার চেয়েও কোনভাবেই বেশি নয়। তাহলে কিছু নমুনা দেখুন !


নমুনা ০১:
এটা যে ১৯৫৮-৫৯ সালে (বর্তমানে নাকি নিখোঁজ) ভাস্কর নভেরা আহমেদের তৈরি একটা ভাস্কর্য, তা একজন কানাও চোখ বুজে বলে দিতে পারে। কিন্তু চক্ষুষ্মান হলেও যিনি ভাস্কর্যটি ইতিপূর্বে কখনোই দেখেন নি, তাঁকে ছবি ছাড়া এই ভাস্কর্যটি সম্পর্কে গড়ন-গাড়ন, দেখতে কেমন, কতো বড়ো ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ের স্পষ্ট ধারণা দেয়ার জন্য যে রকম শক্তিশালী ভাষার ব্যবহার দরকার, তা কি আমার আছে ? আর শুধু লেখা পড়েই চোখ বুজে কখনো না-দেখা একটা ভাস্কর্যের ছবি মনের মধ্যে হুবহু তৈরি করে ফেলা আদৌ কি সম্ভব ? অথচ কানা হোক তবু এরকম একটা ছবি হলে কোন ভাষার কি আদৌ প্রয়োজন হয় !


নমুনা ০২:
দেখুন তো, কী চমৎকার ছিমছাম মঞ্চ ! হালকা আলোয় মঞ্চের প্রতিটা উপকরণ নিজে নিজেই কীরকম প্রাণময় হয়ে ওঠেছে। বৈশিষ্ঠ্যে জড়বস্তু হলেও একজন অসুস্থ বীর মু্ক্তিযোদ্ধা পিতার সারাজীবনের অবদানকে ওরা সকৃতজ্ঞ শ্রদ্ধায় প্রণতি জানাচ্ছে যেন ! কোন্ যোগ্য ভাষা দিয়ে অযোগ্য আমি তা ব্যাখ্যা করবো ?


নমুনা ০৩:
প্রেস রিলিজের জন্য ফটোসেশান হলেও আগত শিল্পীদের ধারণকৃত ছবির এই একাংশের মধ্যে শিল্পীসত্ত্বার বহিঃপ্রকাশ কি তাঁদের চেহারায় মুখভঙ্গিতে দারুণভাবে ফোটে ওঠেনি ! কৃতজ্ঞতাবোধে উজ্জীবিত এই শিল্পীসত্ত্বারা যে একজন দূরারোগ্য জটিল ক্যান্সারে আক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের প্রতি তাঁদের সুরসাধনালব্ধ সবটুকু আবেগ উজার করে ঢেলে দিতে পারেন, সেই বোধটুকু কোন্ কলমে ব্যাখ্যা করবো আমি !


নমুনা ০৪:
আবদুননূর তুষার, মিডিয়া জগতের একজন খ্যাতিমান তারকা উপস্থাপক। অত্যন্ত মানবিক এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করতে গিয়ে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধায় কৃতজ্ঞতায় তিনিও তাঁর আপ্লুত আবেগকে কিভাবে আগত শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা কি এই ছবিই বলে দেয় না !


নমুনা ০৫:
অন্তর্গত আবেগের কোন বহিঃস্থ পণ্যমূল্য থাকে না। তবুও আমাদের আবেগগুলো কোন না কোনভাবে প্রকাশ পেয়েই যায়, ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক যেভাবেই হোক। এই আয়োজনটি যে কোনো উচ্ছ্বসিত উল্লাসের প্রতীকায়ন ছিলো না, বরং আমাদের কৃতজ্ঞবোধ প্রকাশের মহার্ঘ মুহূর্ত ছিলো, কানা ছবিতে মিলনায়তনের দর্শক গ্যালারি যেভাবে তা প্রকাশ করছে, সীমাবদ্ধ আমার ভাষার অক্ষর কি ততোটা সংহত হতে পারতো !


নমুনা ০৬:
কঠিন আবৃত্তিকার হাসান আরিফ। আবৃত্তির গমকে গমকে মিলানায়তন জুড়ে যে চমৎকার এক মোহমুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছেন, দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে তা কখনো প্রেমের, কখনো বিদ্রোহের, কখনো আবেগের, কখনো যুদ্ধের এবং একাত্তরের মানবিক স্পন্দন হয়ে ধ্বণিত-প্রতিধ্বণিত হতে থাকলো। স্বাস্থ্যগত জটিলতায় হাঁটতে ভীষণ কষ্ট হলেও তাঁর কণ্ঠশীলনের তুখোড় স্বাস্থ্য ও দক্ষতা কতোটা যে দুর্বিনীত ছিলো, তার প্রকাশ আমার এই কানা ক্যামেরার সাধ্যেরও বাইরে।

নমুনা ০৭-১৭:
আমি চিৎকার করে করে যতোই গলা ফাটিয়ে ফেলি না কেন, কিভাবে প্রমাণ করবো যে যেসব শিল্পীরা তাঁদের শিল্পীসত্ত্বা উজাড় করে একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সুরে সুরে, তাঁরা হলেন- বংশীবাদক গাজী আব্দুল হাকিম, কণ্ঠশিল্পী লিলি ইসলাম, লীনা তাপসী, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, শাম্মি আক্তার, খুরশিদ আলম, আকরামুল ইসলাম, সজীব, কৃষ্ণকলি, আবু বকর সিদ্দিক ও আলবেরুনী অনু। এবং যন্ত্রে সঙ্গত করেছেন তবলায় রঞ্জন, কীবোর্ডে সাজু ও অক্টোপ্যাডে দীপ ! বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলেই পরিচয়ের মতোই পর্যায়ক্রমিক ছবিগুলো হলে আর কোন কথা বলার দরকার আছে ?






















ছবির ভাষা বহুমাত্রিক। অনেক কথাই বলে সে। এবং কখনো কখনো এমন কথাও বলে, যা বিশ্বাসই হতে চায় না ! তবু বিশ্বাস না করে উপায় থাকে কি ? কিন্তু প্রামাণ্যবিহীন আপাত অবিশ্বাস্য কথা বিশ্বাস করানোর মতো কোন দালিলিক ভাষা কি আমাদের আয়ত্তে আছে ? এজন্যেই হয়তো দালিলিক ছবির আবশ্যিকতা। এ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আমাদের অনেক শ্রমনিষ্ঠ সচল ও অসচল বন্ধুদের যে আন্তরিকতা এই আয়োজনের পরতে পরতে ছুঁয়ে আছে তাঁর কোন ছবি আমার এ কানা ক্যামেরা ধারণ করতে পারে নি বলে আফসোস থেকে গেলো। তবে আগামী পর্বের জন্য গুটিকয় সচলের কীর্তিকলাপের যেসব ছবি রয়ে গেলো, তা নিশ্চয়ই দালিলিকই হবে।

[আগামী পর্বে সমাপ্য]

[sachalayatan]
[somewherein|jonmojuddho]

Sunday, December 21, 2008

[Click] ভুল করে একদিন...। ০৩। স্থাপত্য

।রণদীপম বসু।
.......


ছবি ০১: বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমী (পাশে গ্রামীণ ব্যাংক)। মিরপুর, ঢাকা।



ছবি ০২: হোটেল শেরাটন, ঢাকা।



ছবি ০৩: ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশ। কাকরাইল, ঢাকা।



ছবি ০৪: জাতীয় জাদুঘর। শাহবাগ, ঢাকা।